বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

জনগণের স্বার্থে টিসিবির পণ্য ও ট্রাক সেল পয়েন্ট বাড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা,সাবেক প্রশাসক সুজনের

 

মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদ
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা অনুপাতে টিসিবির পণ্য এবং ট্রাক সেল পয়েন্ট বাড়াতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির হস্তক্ষেপ কামনা করলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। আজ রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

এসময় সুজন বলেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হলো চট্টগ্রাম। সরকারি হিসেবে এ নগরীতে প্রায় ৬০ লক্ষ অধিবাসীর বসবাস। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। দেশের বৃহৎ সমুদ্র বন্দর নগরী হওয়ার কারণে সারাদেশের অধিকাংশ জেলার লোকের বসবাস এই চট্টগ্রামে। সে হিসেবে নগরীতে নিম্ন আয়ের লোকসংখ্যাও প্রচুর। সম্প্রতি ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এসব দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। এমতাবস্থায় মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের লোকজন টিসিবির পণ্যের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুলভে নিত্যপণ্যের জন্য স্বস্তির ঠিকানা হয়েছে টিসিবি। টিসিবির পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে তারা জীবনযাত্রার ব্যয়কে কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে টিসিবির প্রাপ্ত তথ্য মতে চট্টগ্রামের নগরীতে মাত্র ১৭ জন ডিলার ১৭টি স্থানে ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চট্টগ্রামের মতো এতো বৃহৎ নগরীতে চাহিদার তুলনায় যা নিতান্তই অপ্রতুল। এছাড়া বরাদ্দকৃত পণ্যের পরিমান এলাকা ভেদে খুবই কম। আবার ক্ষেত্রবিশেষে ডিলাররা সব পণ্য বিক্রি না করে বাহিরে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। ট্রাক সেলের সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি মনিটরিং করার মতো কেউ নেই। যার ফলে ডিলাররা সঠিকভাবে পণ্য বন্টন করছে কিনা সে প্রশ্ন রয়ে যায়। আবার অনেককে বরাদ্দকৃত পণ্যের চেয়ে কম পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠে প্রায়শই। প্রতিদিন সকাল দশটার মধ্যে জনগণকে পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। যার কারণে নগরীর প্রায় সবকটি ট্রাক সেল পয়েন্টে ক্রেতাদের দীর্ঘলাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব পণ্য ক্রয় করতে ভোক্তাকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার দেখা যায় যে বিক্রিকৃত পণ্য প্যাকেট করার নামে ভোক্তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড় করিয়ে রাখা হয়। এ যেনো এক অমানবিক দৃশ্য। অথচ পণ্যগুলো বিক্রয়ের আগে প্যাকেট করে রাখলে জনগনের এ ভোগান্তি হতো না। আবার পণ্য শেষ হওয়ার কথা বলে বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও কাংখিত পণ্য পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এরকম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রমটি। অথচ একটু দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে সরকারের এ মহৎ উদ্যোগের সুফল ভোগ করতে পারতো ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা সমাজের অসহায় মানুষগুলো। এর সুফল পৌঁছে দিতে হলে টিসিবির পণ্য এবং ট্রাক সেল পয়েন্ট বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন সরকার সমাজের অসহায় জনগনের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। তাই নিত্য ব্যবহার্য পণ্যসামগ্রী সুলভে জনগনের কাছে পৌঁছে দিতে টিসিবির ডিলার বাড়ানো, পণ্য এবং ট্রাক সেল কার্যক্রম বৃদ্ধি করে সহজেই যাতে জনগন কাংখিত পণ্য পেতে পারে সেজন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেন খোরশেদ আলম সুজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ