বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

দেবহাটায় সোমবার ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের দূর্গা পুজা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ

আজ থেকে ষষ্টীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পুজা। শান্তি পুর্ন ভাবে উৎযাপনের লক্ষে ইতি মধ্যে বিজিবি- বিএসএফ এর পতাকা বৈঠক, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পৃথক পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি ও সিমান্ত সমস্যার কারনে এবারো হচ্ছে না বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভারতÑবাংলাদেশ সিমান্তের কাঙ্খিত দুই বাংলার মিলন মেলা। নিজ নিজ জলসীমায় প্রতিমা বিসর্জনের কথা থাকলেও নদীতে নামার অনুমতি নেই সাধারন দর্শনার্থীদের। সুতরাং দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে থাকছে না দুই বাংলার মিলন মেলা। থাকছে শুধু নদীর কিনারে দাড়িয়ে চোখের ইশারা আর হাত ছানি। দেবহাটায় বর্নিল আয়োজনে প্রস্তুত পূজা মন্ডপ গুলো। শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে নানান সাজে সেজেছে ২১টি দূর্গা প্রতিমার মন্ডপ। দীর্ঘ ১বছর পর দূর্গা মায়ের আগমনের অপেক্ষায় সনাতন ধর্মালম্বী হিন্দু সম্প্রদায়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মনে করা হয়, দেবীর দুর্গার মর্তে আগমন ও গমন যেই বাহনে, তার ওপর নির্ভর করে গোটা বছরটা পৃথিবীবাসীর কেমন কাটবে। এবার দূর্গা মায়ের আগমন ঘোটকে, যার অর্থ ছত্রভঙ্গ (সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এলোমেলো অবস্থা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, অশান্তি, ইত্যাদির সংকেত)। এই বছর মা দূর্গার প্রস্থান ঘটবে দোলায়। যার অর্থ মড়ক কিংবা মহামারী। এদিকে দূর্গা মায়ের আগমন উপলক্ষে মন্ডপ গুলো সেজেছে নানান সাজে। সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীরা সমার্থ অনুযায়ী পরিবারের কেনা কাটার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করে ফেলেছে। শুরু হয়েছে প্রতিটি মন্দিরে আনন্দ মূখর পরিবেশে আলোর ঝলকানি। সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজাকে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার পূজা মন্ডপ গুলোতে প্রতিমা শিল্পীরা ইতিমধ্যে শেষ করেছে প্রতিমা তৈরী ও রং তুলির কাজ। বিশ্ব শান্তির কল্যানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১১ অক্টোবর (সোমবার) ষষ্ঠীতে দেবীর দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর (বুধবার) অষ্টমী ও কুমারী পূজা, ১৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মহা-নবমী এবং ১৫ অক্টোবর (শুক্রবার) দশমীতে বিজয়ার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে দূর্গা মাকে বিসর্জন দিয়ে বিদায় জানাবেন। এদিকে উপজেলার ২১টি পূজা মন্ডপের মধ্যে অধিক ঝুকিপূর্ণ ধরা হয়েছে গাজীর হাট সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ। এছাড়া সুবর্ণবাদ সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, দক্ষিন পারুলিয়া জেলিয়াপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, সখিপুর পালপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপসহ উপজেলায় ছয়াট মন্ডপ ঝুকিপূর্ন ধরা হয়েছে। তাছাড়া দূর্গা পূজা অনুষ্টিত হবে বহেরা সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, কুলিয়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, শ্যামনগর পশ্চিমপাড়া দূর্গা পূজা মন্ডপ, বালিয়া ডাঙ্গা দূর্গা পূজা মন্ডপ, হিজলডাঙ্গা দূর্গা পূজা মন্ডপ, শ্যামনগর পূর্বপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, সন্ন্যাসখোলা সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, উত্তর পারুলিয়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, নোড়ারচক সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, বড়শান্তা সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, কোমরপুর উত্তরপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, মাঝ পারুলিয়া দাসপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, কোঁড়া পাকড়াতোলা সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, দেবহাটা ফুটবল মাঠ সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, দেবাহাটা বাজার সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ, টাউনশ্রীপুর সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপ ও টাউন শ্রীপুর পালপাড়া সার্বঃদূর্গা পূজা মন্ডপে। তবে এবার দূর্গাপুজার গুরুত্বপূর্ন দিনগুলোতে বিশেষ করে উপজেলার সখিপুর লাইট হাউজ সিনেমা হল থেকে শুরু করে পারুলিয়া প্রধান সড়কের বদরতলা-ইছামতি সংলগ্ন মোড়, চারা বটতলা পূজা মন্ডব সংলগ্ন প্রধান সড়ক এবং গাজির হাট বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কে প্রশাসন দিবে বাড়তি নিরাপত্তা। এব্যাপারে দেবহাটা পুজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাস চন্দ্র ঘোষ জানান, এবারের দূর্গা পূজায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনি সার্বিক সহযোগীতা করছে। কেন্দ্রীয় নিদের্শনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল মন্ডপে পূজা অনুষ্টিত হবে। তাছাড়া উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্দীর কমিটি আবার স্বেচ্ছা সেবক নিয়ে সার্বক্ষনিক নজর রাখছে। এ পর্যন্ত কোথাও কোন অ-প্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমি আশা করি বরাবরের মত এবারও সুন্দর সু-শৃঙ্খল ভাবে পূজা সমপ্ত হবে। এব্যাপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, দূর্গা উৎসবকে ঘিরে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে সে জন্য মন্ডপ গুলোতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী, আনসার, গ্রামপুলিশ, স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি সার্বক্ষনিক মোবাইল টিম ও ইউনিয়ন বিট অফিসাররা বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি রাখবে। এছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের দিন দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী যে মিলন মেলা হয় সেটিও শান্তিপূর্ন ভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর পতাকা বৈঠক হয়েছে। এদিকে দেবহাটা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, কোন প্রকার নাশকতা এড়াতে এবারের দূর্গা পূজায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে প্রশাসন দিবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা। প্রত্যকটি মন্দিরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে পূজা মন্ডপ গুলোর জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্রাগ অফিসার। এছাড়া সশস্ত্র আনসার ব্যাটালিয়ান ভ্রাম্যমাণ ভাবে সার্বক্ষনিক টহলরত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ