সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

বাবুগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নকারী প্রধান শিক্ষক পলাতক

বরিশালের বাবুগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে রফাদফাও করেছিলেন। তবে ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘটনা জেনে ফেলেন ওসি। তিনি ভিকটিমের পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে দায়ের হয় মামলা। মামলার খবর পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। এদিকে লম্পট প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ভূতেরদিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারী (৪৫) গত ২২ নভেম্বর রাতে লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাড়িতে যান। এসময় ওই ছাত্রীর বাড়িতে বৃদ্ধা নানী ছাড়া আর কেউ না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক তার হাত ধরে বাড়ির বাইরে অন্ধকারে নিয়ে যাবার জন্য টানাটানি করেন। তবে ওই ছাত্রী অন্ধকারে যেতে রাজি হয়নি।

এর পরদিন সে স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে কৌশলে পেছনের খালি বেঞ্চে বসিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও আপত্তিকর জায়গায় হাত দেন এবং ছুটির পরে একা নিজের রুমে আসতে বলেন। তবে ওই ছাত্রী ভয় পেয়ে ছুটি হওয়ার সাথেসাথেই ক্লাস থেকে বেরিয়ে তার মামীর বাড়িতে চলে যায়। মামী পরে তার মাকে ঘটনা জানালে ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষক ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর কাছে ছুটে যান। পরে চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়িতে লোকজন পাঠিয়ে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন এবং ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারী স্থানীয় বিভিন্ন দলের নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেন। এদিকে চেয়ারম্যানের মীমাংসা ও বিচারের আশায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ঘটনার পরে ৭ দিন অতিবাহিত হলেও চুপচাপ বসে থাকে।

তবে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি দুদিন আগে বাবুগঞ্জ কণ্ঠ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন মুরাদ সরদার নামের এক প্রবাসী। ওই পোস্টটি বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মাহবুবুর রহমানের নজরে আসলে তিনি পুলিশের একটি দল নিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়িতে হাজির হন। এদিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারী। এদিকে যৌন নিপীড়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে লম্পট প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার স্কুল মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

শিক্ষার্থী অভিভাবক আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারী একজন চিহ্নিত লম্পট এবং চরিত্রহীন ব্যক্তি। তিনি এর আগের স্কুলে চাকরি করার সময়ও একইভাবে একটু বড় আর সুন্দর মেয়ে দেখলেই বিভিন্ন অজুহাতে নিজের রুমে তাদের ডাকতেন এবং ছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করতেন। এই অভ্যাস তার বহুদিনের। তার উৎপাতে ক্লাস ফাইভের অনেক মেয়ে স্কুলে যেতে চাইতো না। পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি এসব অপকর্ম করতেন। ফলে অনেক ছাত্রীরা ভয়ে অভিভাবকের কাছেও মুখ খুলতো না।’

এদিকে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ যাবার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে আছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৭১৬-২৯৪৫৮৫) অনেকবার ফোন দেওয়া হলেও সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।

বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ভিকটিম শিশুটির বাড়িতে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাই। শিশুটির মা চেয়ারম্যান আর স্থানীয় নেতাদের মীমাংসার আশ্বাসে এবং তাদের চাপে থানায় আসেননি। বাড়িতে পুলিশ গেলে তার ভয় কেটে যায় এবং নিজেই থানায় এসে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতে আজ ভিকটিম শিশুটির জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক সালাম বেপারী বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম শিশুটিকে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করেছেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে এমন অপকর্ম করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সাহস পেয়ে এখন অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোবাইল বন্ধ করে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


ফেসবুক পেজ
ব্রেকিং নিউজ